হাওরের ৯০ ভাগ ফসল কাটা শেষ : কৃষি মন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক : কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাওরের বোরো ফসল সম্পূর্ণ ঘরে উঠে যাবে। ইতিমধ্যে ৯০ ভাগ ধান কৃষকের ঘরে উঠেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার কারণে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কোনরকম ঝুঁকি ছাড়াই ধান ঘরে তোলা গেছে। চলতি বোরো মৌসুমে মোট ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩৭ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১১ লাখ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। মোট ধানের ২৫ শতাংশ ইতিমধ্যে কাটা হয়ে গেছে।

আজ মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বোরো ফসলের এবং আউশ আমন মৌসুমের প্রস্তুতি নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

কৃষি মন্ত্রী আরও জানান, আগামী জুনের মধ্যে সারাদেশের শতভাগ বোরো ফসল কৃষকের ঘরে উঠে যাবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে অর্থাৎ কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিন ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষক ধান ঘরে তুলতে পেরেছে। চলতি মৌসুমে সারাদেশে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফসল উৎপাদন হয়েছে। ফলে দেশে কোন খাদ্য সংকট দেখা দেবে না।

তিনি আবারো স্মরণ করিয়ে দেন, সরকার দেশের কৃষকের পাশে আছে। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বরাদ্দ মিলিয়ে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হবে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ইতিমধ্যে কৃষকদের মধ্যে ১৫০ কোটি টাকার সার ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসে আমন মৌসুমে জন্য কৃষককে যাতে পর্যাপ্ত বীজ, সার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া যায় তার জন্য আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছি। আমনে আমরা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও দুই লাখ মেট্রিক টন বাড়িয়েছি। একইভাবে পাট বীজ ও গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ বিনামূল্যে কৃষককে দেয়া হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষক যাতে উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে শাকসবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে পারে সেই জন্য আমরা নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা মাঠ পর্যায়ের অর্থাৎ যশোর, ঈশ্বরদী, পাবনা, নওগাঁ, বগুড়া, নরসিংদী এলাকার বড় বড় মোকাম মালিকদের সাথে ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। যাতে করে কৃষক সহজে তার উৎপাদিত পণ্য ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে এবং ন্যায্য মূল্য পায়। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকার ব্যবসায়ীদের, আড়তদারদের এবং পাইকারদের সংযোগ স্থাপনের।

এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাড়ির আঙ্গিনায় এবং ছাদে শাক সবজি উৎপাদনের জন্য আমরা সার্ভিসসহ প্রযুক্তি সরবরাহ করবো। বাড়ির আঙ্গিনায় যে ১৪ ধরনের শাকসবজি করা যায় তা দিয়ে ১২ মাস সংসারের শাক সবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মৌসুমী ফসল বিশেষ করে আম কিভাবে কৃষকরা বাজারজাত করতে পারেন সে জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।

এসময় কৃষি মন্ত্রী সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমরা আরো অনেক কিছু করতে পারব। গত রবিবার প্রকাশিত বাংলাদেশ বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি সংবাদ এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন নরসিংদী এবং যশোরের দুটি বাজারের চিত্র তুলে ধরেছে। এটি আমাদের খুব কাজ এসেছে। এভাবে যদি সংবাদগুলো উঠে আসে তাহলে আমরা আরো সহজে কাজ করতে পারব।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন খাদ্যের সংকটে না পড়ে এবং কেউ যাতে অপুষ্টিতে না থাকে সে জন্য যা যা করা সব কিছু করা হবে।

সংবাদ সম্মলেন উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।