ঢাকা, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

একালের জুতা আবিষ্কার

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

ভূল
যারা ভেবেছিলেন মুসলমানের দেশে করোনা আসবে না, তারা ভুল ভেবেছিলেন।
যারা ভেবেছিলেন বেশি তাপমাত্রায় করোনা বাঁচে না, তারাও ভুল ভেবেছিলেন।
যারা ভেবেছিলেন রমজানের পর করোনা থাকবে না, তারাও ভুল ভেবেছিলেন।
এই ভুলগুলো এখন প্রমাণিত সত্য।
এখন যারা ভাবছেন এক দুই মাসের মধ্যে করোনা চলে যাবে, তারা ভুলের মধ্যে আছেন।
যারা ভাবছেন শীঘ্রই করোনার টিকা বের হয়ে যাবে, তারাও ভুলের মধ্যে আছেন।
যারা ভাবছেন শুধু ঘরের মধ্যে থেকেই করোনা কাল পার করে ভাইরাস মুক্ত থাকবেন, তারাও আছেন মহা ভুলে।

বাস্তবতা

অন্তত এক বছরের আগে করোনা পুরোপুরি যাচ্ছে না। এক বছরের আগে কোনো টিকাই আপনার হাতে আসছে না। এমন কোনো বেহুলার বাসর ঘর মানুষের পক্ষে তৈরী করা সম্ভব নয়, যেখানে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করবে না।
আপনি মানুষ; অনন্তকাল ধরে কাজের লোক ছাড়া, বাইরের বাজার ছাড়া, মানুষের সংস্পর্শ ছাড়া, গা’য়ে রোদ লাগানো ছাড়া বাঁচতে পারবেন না। সেভাবে বাঁচতে চাইলে আপনি বদ্ধ উন্মাদ-এ পরিনত হতে পারেন।

আপাতত পরিত্রাণ

একসময় সংক্রামক কলেরা রোগে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেতো। মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতো; কারন তারা জানতো না, কেন কলেরা হয়?
পানি ফুটিয়ে সহজেই জীবাণুমুক্ত করা যায়। তাই এখন আর কলেরা মহামারী হয় না; কারন মানুষ এখন জানে ফুটিয়ে বিশুদ্ধ পানি খেলে কলেরা হয় না।

আমরা এখন জানি, করোনা ভাইরাস কোন মাধ্যমে ছড়ায়। করোনা রোগীর থুতু, কাশি, লালা কিংবা চোখের পানি দিয়ে করোনা ভাইরাস ছড়ায়। এগুলো আপনার নাক, মুখ ও চোখের পথ দিয়ে না ঢুকতে দিলে আপনি আক্রান্ত হবেন না। শুধুমাত্র নাক, মুখ ও চোখে বাইরের লালা, থুতু, চোখের পানির সাথে আসা ভাইরাস থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেই আপনি করোনা মুক্ত থাকতে পারেন।
এটি বলা খুব সহজ, কিন্তু করা খুবই কঠিন।

অনেক বছরের অভ্যাসের দাস আপনার হাতকে বশে রাখতে হবে। হাত যেন সাবানে পরিষ্কার করা ছাড়া কোনভাবেই নাক, মুখ, চোখ না ছোঁয়। অন্েযর কাছে থেকে উড়ে আসা থুতু, লালা বা পানি মাস্ক এবং চশমা দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে।
কথার মাঝে ছড়ানো লালা/থুতু -কে বক্তা বা শ্রোতা উভয়ের পরিধান করা মাস্কের সাহায্যে প্রতিরোধ করা খুব সহজেই সম্ভব।

জুতা আবিষ্কারের গল্পের মতো সারা পৃথিবী চামড়া দিয়ে না ঢেকে আপনার পা দু’টো ঢাকলেই যেমন চলে; তেমনি আপনার নাক-মুখ-চোখ ঢাকুন, আর হাতকে সংযত রাখুন।
এই অল্প কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করেই আপনি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারবেন ৯৫%। বাকি ৫ শতাংশের জন্য ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

উপসংহার

ভীত হয়ে মানসিক রোগী হবেন না। মৃত্যুর চেয়ে সত্য কিছুই নাই; পৃথিবীতে জন্ম নিলে আপনাকে মরতে হবেই। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে গিয়ে ভয়ের মরণ মরবেন না। মনে রাখবেন, আপনার জীবন সুন্দর; তবে সেটা কেবলমাত্র উপভোগ করতে পারলেই!

সংগৃহীত ও সম্পাদিত
মোহাঃ শফিকুল ইসলাম

বিপিএম বার
পুলিশ কমিশনার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

  • এই বিভাগের সর্বশেষ

    ঘোষনাঃ