কৃষিজমি ফেলে রাখলেই ফিরছে জীববৈচিত্র্য, ফুটছে হাজার হাজার অর্কিড

August 24, 2026

যুক্তরাজ্যের নরফোকের নর্থ নরফোক এলাকায় পরিত্যক্ত কৃষিজমি প্রাকৃতিকভাবে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বুনোফুলের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) অধ্যাপক কার্ল সেয়ারের নেতৃত্বাধীন গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো ধরনের কৃত্রিম হস্তক্ষেপ ছাড়াই জমিটি তার হারানো জীববৈচিত্র্য ফিরে পেয়েছে এবং সেখানে হাজার হাজার অর্কিড জন্মেছে। এই গবেষণাটি বনাঞ্চল বা চারণভূমি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

গবেষণার পটভূমি

নরফোকের ওই দুই হেক্টরের কৃষিজমিতে ২০০৫ সালের পর থেকে চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর ধরে গবেষকরা সেখানে উদ্ভিদ প্রজাতির পরিবর্তনের ওপর নজর রাখেন। এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত ঘাস কাটার প্রচলিত পদ্ধতি ছাড়া জমিটিতে অন্য কোনো বাড়তি হস্তক্ষেপ করা হয়নি। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, এক দশকের ব্যবধানে জমিটিতে উদ্ভিদের বৈচিত্র্য দ্বিগুণ হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

সাধারণত কোনো চারণভূমি পুনরুদ্ধারে বাণিজ্যিকভাবে বীজ কেনা বা অন্যান্য ব্যয়বহুল পদ্ধতি ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। তবে এই গবেষণার ফলাফল বলছে, প্রকৃতিকে তার নিজস্ব গতিতে বাড়তে দিলে অনেক বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ীভাবে জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। স্থানীয়ভাবে অভিযোজিত উদ্ভিদ প্রজাতিগুলো প্রাকৃতিকভাবে ফিরে আসায় তা ওই এলাকার জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়তা করে।

প্রাপ্ত ফলাফল

গবেষণার শুরুতে ২০১১ সালে ওই জমির নির্দিষ্ট প্লটগুলোতে গড়ে ১০টি প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গিয়েছিল। ২০২২ সাল নাগাদ সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। সেখানে সাউদার্ন মার্শ অর্কিড, ইয়েলো র‍্যাটল ও কমন সেন্টোরিসহ নানা বিরল উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছে। গবেষকদের ধারণা, বন্যপ্রাণীর মাধ্যমে এই উদ্ভিদগুলোর বীজ ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। অধ্যাপক কার্ল সেয়ারের মতে, কৃত্রিমভাবে বীজ বপনের চেয়ে প্রকৃতির ওপর আস্থা রাখা পরিবেশ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সাশ্রয়ী কৌশল হতে পারে।

Leave a Comment