যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। আদালতে তিনি দাবি করেন, কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি গবেষণার তথ্য তার কাছে উপস্থাপন করা থেকে কর্মীদের বিরত রাখতে প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীরা যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য।
মামলার প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা মেটার বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজস্ব গবেষণায় অ্যাপ ব্যবহারের ফলে তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতির প্রমাণ পাওয়ার পরও মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের তাদের প্ল্যাটফর্মে আসক্ত করার চেষ্টা করেছে।
তথ্য গোপন ও আইনি ভূমিকা
শুনানিতে ২০২৩ সালের একটি স্লাইড ডেক উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দেখা যায় কিশোররা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি আত্মহনন, নিজের ক্ষতি করা এবং খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যার মতো বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসছিল। এই তথ্যগুলো মোসেরির কাছে না পাঠানোর জন্য কোম্পানির এক আইনজীবী কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতে মোসেরি বলেন, আইনি জটিলতা এড়াতে আইনজীবীরা নথিপত্র পর্যালোচনা করে থাকেন, তবে তিনি কোনো তথ্য গোপন করতে উৎসাহিত করেননি।
ইনস্টাগ্রামের ডিজাইন পরিচালক ফ্রান্সেসকো ফোগু আদালতে জানান, তাকে তথ্য গোপন করতে বলা হয়েছিল বলে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, ওই তথ্যগুলো উপস্থাপনায় না থাকলেও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তা সংরক্ষিত ছিল।
নিরাপত্তা ফিচার নিয়ে বিতর্ক
আদালতে ইনস্টাগ্রামের ‘টেক আ ব্রেক’ বা বিরতি নেওয়ার ফিচারটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। মামলার আইনজীবীরা দাবি করেন, এই ফিচারের ব্যবহারের হার খুবই হতাশাজনক। মোসেরি অবশ্য পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান, ইনস্টাগ্রামে এখন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সময়সীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং কার্যকর ফিচারের দিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এই মামলার রায় মেটার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বাদীপক্ষ মেটার কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ এবং অ্যাপের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গসহ অন্য কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।