যুক্তরাষ্ট্রের গেম নির্মাতা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক ডেভেন ম্যাকক্লুর জানিয়েছেন, একসময় হলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমার সাথে তাল মিলিয়ে ভিডিও গেম মুক্তি দেওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা, যা বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের ওপর ভিত্তি করে ৩০টিরও বেশি লাইসেন্সড গেম তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে এসে সেই ধারা আর বজায় থাকেনি। সিনেমা আর গেমের এই যৌথ যাত্রার পতন কেন ঘটল, তা আধুনিক প্রযুক্তি ও বিপণন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গেম তৈরির ব্যয় বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। ২০০৪ সালে যেখানে একটি গেম তৈরির পেছনে ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতো, সেখানে এখন তা ৩০০ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি চলচ্চিত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ এবং অভিনেতাদের স্বত্ব ব্যবহারের খরচ গেম কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে স্টুডিওগুলো বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
বিকাশকাল ও গোপনীয়তা
গেম তৈরির সময়সীমা এবং চলচ্চিত্রের মুক্তির সময়সূচীর অমিল আরেকটি বড় বাধা। বর্তমানে একটি মানসম্পন্ন গেম তৈরি করতে পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগে, অথচ সিনেমার নির্মাণকাল দুই থেকে আড়াই বছর। এছাড়া, আগে চলচ্চিত্র নির্মাতারা গেম ডেভেলপারদের সিনেমার চিত্রনাট্য শেয়ার করলেও বর্তমানে গোপনীয়তার খাতিরে তারা তা করেন না। এমনকি মাইকেল বে’র মতো নির্মাতারা অতীতে গেম ডেভেলপারদের কাছে ডিজাইন বা প্লট প্রকাশ করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, যা গেম তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ইন্ডি গেমের সীমাবদ্ধতা
অনেকে মনে করেন, ছোট বা ইন্ডি স্টুডিওগুলো দিয়ে গেম তৈরির কাজ চালানো যেতে পারে। কিন্তু লাইসেন্সিং ফি এবং বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের মান বজায় রাখার চাপে ইন্ডি ডেভেলপারদের পক্ষে এই বিশাল ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হয় না। দর্শকদের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি, তাই সরাসরি সিনেমাভিত্তিক গেমের পরিবর্তে বর্তমানে সিনেমার মহাবিশ্ব বা একই আইপি’র ওপর ভিত্তি করে নতুন গল্পে গেম নির্মাণের দিকে ঝোঁক বাড়ছে, যেমনটি দেখা গেছে ব্যাটম্যান বা স্পাইডার-ম্যান সিরিজের ক্ষেত্রে।