পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালের মা ও শিশু ইউনিটের তৃতীয় তলায় এয়ার-কন্ডিশনিং ইউনিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগী শিশুদের অভিভাবক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ওয়ার্ডের দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সময়মতো শিশুদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী জাভেরিয়া জানান, তিনি দুই ঘণ্টা ধরে কান্নাকাটি করলেও কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। চার ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হাসপাতালে আগুনের যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না বলেও একাধিক অভিভাবক ও প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন। উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
পিআইএমএস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক রানা ইমরান সিকান্দার বিবিসিকে জানিয়েছেন, নবজাতক চুরি রোধ করার জন্য ওয়ার্ডের দরজা তালাবদ্ধ না রেখে পাহারায় রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে, ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার সোহাইল আশরাফ দাবি করেছেন, জরুরি খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনার দায় নিয়ে ফেডারেল স্বাস্থ্য সচিব আসলাম গওরিকে বরখাস্ত করেছেন। পিআইএমএস-এর মা ও শিশু ইউনিটে ১৫৬টি শয্যা রয়েছে, যা দেশটির অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল। তবে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাকিস্তানের হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা আইনের দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।