যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষকরা মহাবিশ্বের বিশাল দূরত্বে মহাকর্ষ বলের কার্যকারিতা নিয়ে একটি বড় পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০০ বছর আগে স্যার আইজ্যাক নিউটন এবং পরবর্তীতে আলবার্ট আইনস্টাইনের বর্ণিত মহাকর্ষের সূত্রগুলো মহাকাশের বিশাল কাঠামোতেও একইভাবে কার্যকর। মহাবিশ্বের রহস্যময় ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা অদৃশ্য বস্তুর অস্তিত্বের স্বপক্ষে এই গবেষণা নতুন জোরালো প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন গবেষক প্যাট্রিসিও এ. গ্যালার্ডো।
দীর্ঘদিন ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করছিলেন যে, মহাকাশে গ্যালাক্সি ও নক্ষত্রগুলোর চলাচলের গতি দৃশ্যমান বস্তুর ভরের তুলনায় অনেক বেশি। এই অসামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দ্বিধায় ছিলেন— মহাকর্ষের মৌলিক সূত্রগুলো কি বড় পরিসরে বদলে যায়, নাকি মহাবিশ্বে এমন কোনো অদৃশ্য ভর আছে যা অতিরিক্ত টান তৈরি করে।
গবেষকরা আটাকামা কসমোলজি টেলিস্কোপ (এসিটি) ব্যবহার করে কয়েকশ কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকা গ্যালাক্সি গুচ্ছের ওপর পরীক্ষাটি চালান। এটি এখন পর্যন্ত মহাকর্ষের সবচেয়ে বড় মাপের পরীক্ষা। গবেষণার ফলাফল ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটারস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে মহাকর্ষ বলের শক্তি হ্রাসের হার নিউটনের গাণিতিক সমীকরণের সাথে হুবহু মিলে যায়।
এই ফলাফলের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি প্রমাণ করে যে, মহাকর্ষের বিকল্প কোনো তত্ত্বের চেয়ে ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যদিও ডার্ক ম্যাটার ঠিক কী দিয়ে তৈরি বা এর প্রকৃতি কী, তা এখনো রহস্যের আড়ালে রয়েছে। তবে এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, মহাবিশ্বের বিশাল কাঠামো বুঝতে নিউটনের পুরনো সূত্র এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী।