সংগীত কিংবদন্তি ডলি পার্টনের বর্ণাঢ্য জীবন ও অদম্য সাহসের উত্তরাধিকার

August 26, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত জগতের অবিসংবাদিত তারকা ডলি পার্টন প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি কেবল জনপ্রিয় গানই উপহার দেননি, বরং কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং নিজের সৃষ্টিকর্মের স্বত্ব রক্ষায় অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। টেইলর সুইফট ও বিয়ন্সের মতো আধুনিক প্রজন্মের শিল্পীরা তাঁর এই আপসহীন মানসিকতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

১৯৮০ সালে হলিউড সিনেমা ‘নাইন টু ফাইভ’ (9 To 5) নির্মাণের সময় এর শিরোনাম সংগীতটি তৈরি করেন ডলি। সে সময় সেটে গিটার নিষিদ্ধ থাকায় তিনি নিজের অ্যাক্রিলিক নখ দিয়ে তালি বাজিয়ে গানটির সুর তৈরি করেছিলেন। সিনেমাটির সহশিল্পী লিলি টমলিন এবং জেন ফন্ডা গানটি শুনেই বুঝেছিলেন, এটি কেবল একটি সিনেমার গান নয়, বরং এটি কর্মজীবী নারীদের একটি প্রতিবাদী সংগীত। গানটি ডলির ক্যারিয়ারের একমাত্র ইউএস নম্বর ওয়ান একক সংগীত হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় এবং অস্কার মনোনয়ন লাভ করে।

সংগীত শিল্পে ক্যারিয়ারের শুরুতে পর্টার ওয়াগনারের শো-তে কাজ করার সময় ডলি পার্টন নানা লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে নিজের একক ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে তাকে অনেক আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এমনকি এলভিস প্রেসলির মতো তারকা নিজের গান কাভার করতে চাইলেও, গানের মেধাস্বত্ব হস্তান্তরের শর্ত মেনে না নেওয়ায় তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হুইটনি হিউস্টন যখন তাঁর বিখ্যাত গান ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ গেয়েছিলেন, তখন মেধাস্বত্বের কল্যাণে ডলি যে আয় করেছিলেন, তা তিনি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন।

শৈশবে দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা ডলি পার্টন তাঁর গানে সবসময় জীবনের আশা ও হৃদয়ের কথা তুলে ধরেছেন। ‘কোট অফ মেনি কালারস’ বা ‘মাই টেনিসি মাউন্টেন হোম’-এর মতো অ্যালবামে তিনি তাঁর সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। সংগীতের বাইরেও তিনি শিশুদের শিক্ষা এবং বই বিতরণে বিশাল অবদান রেখেছেন। তাঁর এই অনন্য জীবনদর্শন ও সংগীতে নারীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বার্তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Leave a Comment