যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল তাদের নতুন ম্যাক মিনি এবং ম্যাক স্টুডিও ডেস্কটপ কম্পিউটার উন্মোচন করেছে। লেখক ফিলিপ এসপোসিটো জানিয়েছেন, যদিও এই কম্পিউটারগুলোর বাহ্যিক গঠনে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি, তবে নতুন উন্নত চিপসেট যুক্ত হওয়ার কারণে এগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আগামী মাস থেকে এগুলো বাজারে পাওয়া যাবে, তবে বর্তমানে প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে। ব্যবহারকারীর কাজের ধরন অনুযায়ী সঠিক ডিভাইসটি বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাক মিনি: সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য
ম্যাক মিনি আকারে অত্যন্ত ছোট, যার উচ্চতা মাত্র ২ ইঞ্চি। এতে অ্যাপলের ২-ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এম৬ চিপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এর ১২-কোর সিপিইউ ও জিপিইউ সম্পন্ন বেস মডেলটি যথেষ্ট। এছাড়া এম৫ প্রো চিপের সংস্করণটিও প্রফেশনাল কাজের জন্য উপযোগী। ভিডিও এডিটিং, কোডিং বা গ্রাফিক্সের মতো কাজের জন্য এতে ৬৪ জিবি পর্যন্ত র্যাম এবং ৮ টেরাবাইট পর্যন্ত এসএসডি যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে।
ম্যাক স্টুডিও: শক্তিশালী পারফরম্যান্সের জন্য
ম্যাক স্টুডিও মূলত পেশাদারদের জন্য তৈরি একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ডেস্কটপ। ৩.৭ ইঞ্চি উচ্চতার এই ডিভাইসে এম৫ ম্যাক্স চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। যারা এআই মডেল তৈরি বা ভারী গেমিংয়ের মতো কাজ করেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। এছাড়া এম৫ আল্ট্রা চিপযুক্ত সংস্করণে ৩৬টি সিপিইউ কোর এবং ৮০টি জিপিইউ কোর রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের বা বড় স্টুডিওর কাজের উপযোগী। ম্যাক মিনির তুলনায় এতে পোর্ট সংখ্যাও বেশি, যা বাড়তি ডিভাইসের সংযোগ সহজ করে দেয়।
পার্থক্য ও নির্বাচন
ম্যাক মিনির দাম শুরু হচ্ছে ৮৯৯ ডলার থেকে, যা বেশিরভাগ সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে, ম্যাক স্টুডিওর দাম শুরু হচ্ছে ২,৪৯৯ ডলার থেকে। যদি প্রফেশনাল কাজের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রয়োজন হয়, তবেই ম্যাক স্টুডিওর দিকে যাওয়া যুক্তিযুক্ত। তবে সাধারণ কর্মক্ষেত্র ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ম্যাক মিনিই একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকরী সমাধান।