যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী থেকে সব মাইন অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি মূলত বন্ধ করে রেখেছিল। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সতর্ক করে বলেছেন, এখন থেকে কোনো জাহাজ বা নৌকা যদি নতুন করে মাইন পাতার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর অবিলম্বে এবং সুশৃঙ্খলভাবে আক্রমণ করা হবে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধুমাত্র প্রণালীটি বন্ধই করেনি, বরং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও আরব মিত্রদের ওপরও পাল্টা হামলা চালায়।
যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য নেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা ইরানের সঙ্গে আর্থিক অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে, তাদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল, যেখানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরও কোনো চুক্তি না হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। ট্রাম্প মনে করেন, এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে শেষ পর্যন্ত ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে।
এদিকে ইরান এই নিষেধাজ্ঞাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি পরাজয় হিসেবে দেখছে। ইরানের অর্থনীতিমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, তেহরান এই পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অন্যদিকে, চীনের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।
প্রণালীটি পরিচালনার বিষয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদ জানিয়েছেন, আপাতত কোনো সামরিক জাহাজকে এই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং শুধুমাত্র বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। ইরান ও ওমান একটি সাময়িক করিডোর তৈরির চেষ্টা করছে, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।