যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে গাজা বিষয়ক বোর্ডের শান্তি দূত নিকোলে ম্লাদেনভ গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলা এবং হামাসের সামরিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেছেন। এই সংঘাত নিরসনে অক্টোবর মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ম্লাদেনভ নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, গত মাসে বোর্ডের প্রস্তাবিত ১৫ দফা রোডম্যাপ ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। হামাস অস্ত্র সমর্পণের বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব মেনে নিলেও, ইসরায়েল কঠোর অবস্থানে অটল। তারা বলছে, সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে।
হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০০ জনই শিশু। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
ম্লাদেনভ আরও বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তার আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশ্ন নিষ্পত্তির জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এই শান্তি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে। একইসঙ্গে তিনি হামাসের সামরিক কার্যক্রম, টানেল পরিচালনা এবং অস্ত্র বহনের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন রোডম্যাপ অনুযায়ী হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার একটি সুশৃঙ্খল ও পারস্পরিক প্রক্রিয়া।
নিরাপত্তা পরিষদের সভায় ইসরায়েলি প্রতিনিধি আবারও দাবি করেন যে, হামাস যতক্ষণ সামরিক অবকাঠামো বহাল রাখবে, ততক্ষণ শান্তি চুক্তি কার্যকর সম্ভব নয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক হত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুরক্ষা চেয়েছেন। ম্লাদেনভ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে তা পুনর্গঠনের আর কোনো পথ খোলা থাকবে না এবং এটি হবে পুরো অঞ্চলের জন্য এক ধ্বংসাত্মক পর্যায়।