নেপালের নুয়াকোট জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের তলিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বুধবার নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা এই বন্যার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ভূমিকম্পবিদরা শুরুতে একে ভূকম্পন হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং কয়েকশ মানুষ এখনো নিখোঁজ। উদ্ধারকারীরা কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নুয়াকোটের বাসিন্দা কল্পনা মাল্লা জানান, বন্যার তোড়ে তার বাবা, মা, বোন ও বোনের সন্তানরা ভেসে গেছেন। তিনি জানান, তাদের বাঁচার কোনো সুযোগ ছিল না। কল্পনা নিজেও তার ছেলেকে নিয়ে একটি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে কোনোমতে বেঁচে যান। তার ছেলে সুগম মাল্লা জানান, তিনি হাত ধরে তার মাকে টেনে তুললেও বোনের ফোনের সংযোগ আর পাচ্ছেন না, যা তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও তাদের সবকিছু হারানোর বর্ণনা দিয়েছেন। গোমা পণ্ডিত নামে এক নারী জানান, তার গবাদি পশু এবং কয়েক টন ফসলের পুরোটাই বন্যায় ভেসে গেছে। এদিকে কাঠমান্ডুর টিইউ টিচিং হাসপাতালে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে ভিড় করছেন অনেকে। রাসুয়াগামী গাড়ির চালক স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন রাম কুমারী শ্রেষ্ঠা। একইভাবে ছোট ভাই, চাচা ও বন্ধুদের খোঁজে হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন মনি শ্রেষ্ঠা বিশ্ব।
ট্রেকিং গাইড সোনাম দোরজি জানান, রাসুয়া শ্যাফরুতে তার গ্রামে বন্যার ভয়াবহ শব্দ শুনে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। তার বাড়িটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং তার বোন ও ভগ্নিপতিসহ পরিবারের একাধিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। গৃহহীন হয়ে পড়া হাজারো মানুষের জন্য এখন জরুরি খাবার, আশ্রয় এবং চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন।