ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিনোদন পণ্য হতে যাচ্ছে জিটিএ ৬

August 30, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস তাদের নতুন গেম গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬ (জিটিএ ৬) তৈরির পেছনে ১ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিও গেমের জগতে এই বাজেট এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ, যা বড় বাজেটের হলিউড সিনেমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। গেমটি তৈরির পেছনে দীর্ঘ এক দশকের শ্রম ও বিশাল কর্মীবাহিনীর অবদান রয়েছে।

গেম তৈরির ব্যয় বৃদ্ধির কারণ

আধুনিক গেম তৈরিতে এখন হলিউড সিনেমার মতোই বিপুলসংখ্যক কলাকুশলী, লেখক, প্রোগ্রামার, অ্যানিমেটর এবং ডিজাইনারের প্রয়োজন হয়। অন্যান্য গেমের তুলনায় জিটিএ ৬ দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি করা হচ্ছে। গেমটির মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রচুর জনবল ব্যবহারের ফলে এর খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। এর আগে সনি বা অ্যাক্টিভিশনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের গেমগুলোতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার খরচের নজির থাকলেও জিটিএ ৬ সেই সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ

রকস্টার গেমস এবং এর প্রকাশক টেক-টু ইন্টারঅ্যাকটিভ এই বিশাল বিনিয়োগের পেছনে বড় বাণিজ্যিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া জিটিএ ৫ প্রথম দিনেই ৮০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল এবং এখন পর্যন্ত গেমটি ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। জিটিএ ৬-এর সিঙ্গেল প্লেয়ার মোড এবং অনলাইন সংস্করণ থেকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক মুনাফার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

চ্যালেঞ্জ ও কর্মপরিবেশ

বিশাল বাজেট সত্ত্বেও গেমটির মুক্তি একাধিকবার পিছিয়ে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। রকস্টার নর্থের কো-হেড অ্যারন গারবাট জানিয়েছেন, গেমটিতে ৬ লাখ অ্যানিমেশন ব্যবহার করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী গেমের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের চাপে কর্মীদের দীর্ঘ সময় কাজ বা ‘ক্রাঞ্চ’ করার অভিযোগ উঠেছে। অতীতে রেড ডেড রিডেম্পশন ২ তৈরির সময়ও কর্মীদের ১০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজের চাপের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। জিটিএ ৬-এর ক্ষেত্রেও কর্মীবাহিনীর শ্রম ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।

Leave a Comment