যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে অবস্থিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকরা কিটো ডায়েট নিয়ে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করেছেন। এতে দেখা গেছে, অন্যান্য ডায়েটের তুলনায় কিটো ডায়েট লিভারের চর্বি কমাতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে নাটকীয়ভাবে বেশি কার্যকর। গবেষক স্যামুয়েল ক্লেইন জানিয়েছেন, স্থূলতা এবং প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে আনা ওজন কমানোর বাইরেও শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল
গবেষকরা মোট ৪২ জন স্থূল, প্রি-ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভার আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই ট্রায়ালে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এদের তিনটি ভিন্ন দলে ভাগ করে কিটো, মেডিটেরানিয়ান এবং লো-ফ্যাট ডায়েট অনুসরণ করতে দেওয়া হয়। চার থেকে পাঁচ মাস পর দেখা যায়, সব দলের অংশগ্রহণকারীরাই প্রায় ১০ শতাংশ ওজন কমিয়েছেন। তবে লিভারের চর্বি কমার হারে কিটো ডায়েট ছিল সবার চেয়ে এগিয়ে। কিটো ডায়েট গ্রহণকারীদের লিভারের চর্বি ৬৭ শতাংশ কমেছে, যেখানে অন্যান্য ডায়েট গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
কিটো ডায়েটের বাড়তি সুবিধা
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, কিটো ডায়েট গ্রহণকারী প্রায় ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে প্রি-ডায়াবেটিসের মানদণ্ড থেকে বেরিয়ে এসেছেন। মেডিটেরানিয়ান ডায়েটের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ এবং লো-ফ্যাট ডায়েটের ক্ষেত্রে মাত্র ৭ শতাংশ।
গবেষণার প্রধান লেখক ম্যাক্স পিটারসেন বলেন, কিটো ডায়েটে চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণ বেশি থাকলেও অংশগ্রহণকারীদের রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়েনি, যা অত্যন্ত চমকপ্রদ একটি তথ্য। কিটো ডায়েট অনুসরণের ফলে শরীরে গ্লুকাগন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইনসুলিনের মাত্রা কমেছে, যা লিভারের চর্বি কমাতে সহায়তা করেছে।