ইসরায়েলের তেল আবিবে গত সোমবার গ্রিস ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে, যার মাধ্যমে এথেন্সে একটি বহুমুখী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হবে। দুই দেশের মধ্যে এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি। তুরস্কের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে গ্রিস তার সামরিক শক্তি আধুনিকায়নের পরিকল্পনা হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
চুক্তির আওতায় থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে অ্যাকিলিস শিল্ড। এই ব্যবস্থায় তিনটি মূল প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেভিডস স্লিং, যা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট আটকাতে সক্ষম। এছাড়া স্বল্প উচ্চতার আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় স্পাইডার সিস্টেম এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে বারাক এমএক্স সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এগুলোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ কমান্ড সেন্টার ও ড্রোন ডোম সিস্টেমও গ্রিসকে সরবরাহ করা হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুজতাইয়ের মতে, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গ্রিসের এই প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি থাকায় ইরান বা তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগরের বিতর্কিত জলসীমা নিয়ে তুরস্কের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় এথেন্স তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে চায়।
২০৩৬ সালের মধ্যে গ্রিস তার সামরিক আধুনিকায়নে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। এই বিশাল বাজেটের অংশ হিসেবেই ইসরায়েলের সাথে এই নতুন চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্স ও ইতালি থেকে যুদ্ধজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
তবে এই চুক্তি নিয়ে গ্রিসের ভেতরে বিতর্কও রয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে ইউরোপের অনেক দেশের মতো গ্রিসের সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের একাংশ ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির সমালোচনা করছেন। অনেকে মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে গ্রিস ইসরায়েলের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি হতে পারে।