দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ: রাত-দিন কাঁপছে জনপদ

September 4, 2026

লেবাননের ফ্রোন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিস্ফোরণ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ফলে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী হাসান সাঈদ রমজান জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর বিস্ফোরণে পাহাড় ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং ভূমি কেঁপে উঠছে। ফ্রোন, ঘান্দৌরিয়া, বুরজ কালাওয়ে এবং কালাওয়ে গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিন-রাত অবিরাম যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের শব্দের পাশাপাশি বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার শব্দে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি করে এই এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। এর প্রভাবে কানতারা পর্বতমালাসহ বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। মার্চ মাসে দ্বিতীয় দফায় আগ্রাসন শুরুর পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সেখানে দীর্ঘমেয়াদে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ফ্রোনসহ বেশ কিছু গ্রামকে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে পাইলট জোনের আওতাভুক্ত করা হলেও তা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর সেনা প্রত্যাহারের অনীহা এবং হিজবুল্লাহর বিরোধিতার কারণে এই প্রক্রিয়ার কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্রামগুলোর অধিকাংশ কৃষি জমি ও বসতবাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘান্দৌরিয়া পৌরসভার প্রধান মোহাম্মদ আলি নাদের জানিয়েছেন, কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে জলপাই, গম ও তামাকের বাগানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ ও পানিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে ফিরে এসে তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখে চরম হতাশায় ভুগছেন। লেবানন সরকার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিষেবাগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও, ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতায় তা কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

Leave a Comment