ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী ওডেসা শহরে জনসমাগমস্থলে রুশ ভাষা নিষিদ্ধ করার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে চলতি সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন স্থানীয় কাউন্সিলররা। ওডেসা ইউক্রেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং এখানকার অধিকাংশ মানুষ রুশ ভাষায় কথা বলেন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে শহরের রাস্তাঘাট, পার্ক, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে রুশ ভাষার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে ইউক্রেনের জাতীয় আইনে রুশ ভাষার ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকলেও ওডেসার নতুন এই প্রস্তাব তা আরও কঠোর করার লক্ষ্য নিয়েছে।
ওডেসার আইনজীবী আর্তেম কারতাশভ, যিনি শহরটিকে রুশ ঐতিহাসিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার সরকারি কর্মকাণ্ডে পরামর্শ দিচ্ছেন, তিনি এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, রুশ সঙ্গীত বা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ বোরিস বারস্কি এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল ভ্লাদিমির পুতিনকেই সুবিধা দেবে এবং ইউক্রেনকে ভালোবাসেন এমন মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করবে।
প্রস্তাবটিতে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে রুশ ভাষা নিষিদ্ধ করার জন্য পরামর্শ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওডেসার স্থানীয় ভাষায় রুশ বই লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলারও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের কঠোর নীতি ইউক্রেনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। নৃবিজ্ঞানী আনাস্তাসিয়া পিলিয়াভস্কির মতে, ভাষা নয় বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর এই বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করছে যে, তারা ঠিক কিসের জন্য লড়াই করছেন।
ওডেসার কাউন্সিলরদের একটি প্রভাবশালী অংশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। এর আগে ইউক্রেনের কিয়েভসহ কিছু শহরে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক পাভলো ভিক্টোর মনে করেন, রুশ ভাষা থেকে ইউক্রেনীয় ভাষায় রূপান্তর হওয়া উচিত অত্যন্ত নমনীয় এবং সময়ের প্রয়োজনে, জোর করে নয়। ওডেসা প্রতিদিন রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলেও শহরটির দীর্ঘদিনের রুশভাষী ঐতিহ্যের সাথে নতুন এই আইনের সংঘাত স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আবেগ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।