শত বছর ধরে চোখের আড়ালে ছিল এই ব্যাঙ

September 6, 2026

ইকুয়েডরের পন্টিফিসিয়া ইউনিভার্সিটি ক্যাটলিকা দেল ইকুয়েডরের বিজ্ঞানীরা প্রিস্টিম্যানটিস মিল্পি নামক এক প্রজাতির ব্যাঙকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রজাতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইকুয়েডর এবং কলম্বিয়া জুড়ে বিস্তৃত এই ব্যাঙটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভুলবশত অন্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ১৯ শতকের নমুনার ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এই রহস্য সমাধান করেছেন।

সাধারণত নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিগুলো দুর্লভ বা সীমিত অঞ্চলের হয়ে থাকে। কিন্তু প্রিস্টিম্যানটিস মিল্পি এর ব্যতিক্রম। এটি ইকুয়েডরের চোকো বন থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলম্বিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত এদের দেখা মেলে। রাতে এদের আলাদা ধরনের ডাক সহজেই শনাক্ত করা যায়। প্রাণবৈচিত্র্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল জু-কিসে এই ব্যাঙটির আনুষ্ঠানিক বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক সান্তিয়াগো রন লন্ডনের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ১৯ শতকের নমুনাগুলো পরীক্ষা করে দেখেন যে, এগুলো ভুলভাবে অন্য কোনো প্রজাতির সাথে যুক্ত ছিল। পরে বর্তমান সময়ের জীবন্ত ব্যাঙের সাথে ওই ঐতিহাসিক নমুনার তুলনা করে গবেষক দলটি নিশ্চিত হন যে, এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি।

এই ব্যাঙটি মূলত নিশাচর। এরা ঝোপঝাড়ের পাতায় অবস্থান করে এবং এদের ডাক অনেকটা ক্লিকের মতো শোনা যায়। স্ত্রী ও পুরুষ ব্যাঙের বাহ্যিক গঠনে পার্থক্য রয়েছে; স্ত্রী ব্যাঙের পায়ের অংশে উজ্জ্বল কমলা বা হালকা নীল রঙের সাথে কালো ছোপ দেখা যায়, যা পুরুষ ব্যাঙের তুলনায় ভিন্ন।

গবেষকদের মতে, শত বছর ধরে টিকে থাকা কোনো ভুল সংশোধন করা এবং নতুন প্রজাতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক গবেষণার সাথে এই প্রাচীন নমুনার সমন্বয় প্রাণিজগত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে আরও প্রসারিত করছে।

Leave a Comment