ভারতের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থার সংকট

September 7, 2026

ভারতের দিল্লিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-এর কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর আস্থার সংকট। স্বচ্ছ ও মানসম্মত পরীক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই সংস্থাটি গঠন করা হয়েছিল। তবে আট বছর পর সেই সংস্থাই এখন প্রশ্নফাঁস এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার অভিযোগের মুখে পড়েছে।

পরীক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা

গত জুন মাসে প্রশ্নফাঁসের জেরে ২০ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থীকে গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা পুনরায় দিতে হয়েছে। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যাদের কাজ হলো পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের সুপারিশ করা।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের কমিটি গঠন নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় অনিয়মের পর কমিটি করা হয়েছে এবং শতাধিক সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে, যার অর্ধেকও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রশ্নফাঁস, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং সরকারি তদন্ত কমিটির এই চক্র চলতেই থাকছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সমাধান

শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সমস্যার মূল শিকড় কেবল প্রশ্নফাঁসেই সীমাবদ্ধ নয়। এনটিএ-এর সক্ষমতা, জবাবদিহিতা এবং কেন্দ্রীয় পরীক্ষা কাঠামোর নকশা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসজিটি ইউনিভার্সিটির প্রধান বিজে রাও মনে করেন, প্রশ্নফাঁস কমাতে কাগজভিত্তিক পরীক্ষার পরিবর্তে কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়া জরুরি। তিনি বলেন, এনটিএ-এর নিজস্ব স্থায়ী কর্মীর অভাব এবং চুক্তভিত্তিক কর্মীদের ওপর নির্ভরতাও মানসম্মত পরীক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষাবিদ কেশব আগরওয়াল প্রস্তাব করেছেন যে, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষার আদলে মেডিকেল পরীক্ষাকেও দুই ধাপে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত করা যেতে পারে। এতে করে একটি নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভরতা কমবে। এছাড়া ব্রাউন ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ফেলো ইয়ামিনি আইয়ারের মতে, সীমিত আসনের বিপরীতে বিপুল প্রতিযোগিতার এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের বছরে একাধিকবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

বারবার পরীক্ষা বাতিল ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। অনেক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তাদের স্বপ্ন ও শ্রম বৃথা যাচ্ছে। ১৭ বছর বয়সী পরীক্ষার্থী পরি জানান, প্রশ্নফাঁসের পর পরীক্ষা বাতিল হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক, যা পুরো প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলে।

যদিও অনেকে এনটিএ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্থাটি বিলুপ্ত করলে সমস্যার সমাধান হবে না বরং কাঠামোগত সংস্কারই এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষা খাতের এই বিশাল প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

Leave a Comment