ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি হামলার বিপরীতে ইরান দ্রুত, শক্তিশালী এবং অধিক বেদনাদায়ক জবাব দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি বলেন, সময় থাকতে তাদের বোঝা উচিত যে যুদ্ধের নিয়ম এখন বদলে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর তিনি এই মন্তব্য করলেন।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে, তাদের রণতরীতে ইরানের হামলার জবাবে তারা ইরানের তেলের ট্যাংকারগুলোতে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই আক্রমণের ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে। তবে ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টাকারী একটি মার্কিন রিমোট-কন্ট্রোল জাহাজ ধ্বংস করেছে তাদের নৌবাহিনী। যদিও এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এই তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলের ট্যাংকার ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেবে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যকার ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে নতুন করে এই উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানসহ পুরো অঞ্চলে একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে দেশ দুটি।
বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপের সৃষ্টি করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাত খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।