ফকল্যান্ডে তেল উত্তোলনের জেরে নাভিটাস পেট্রোলিয়ামের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবে আর্জেন্টিনা

September 8, 2026

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে দেশটির সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রসীমায় তেল উত্তোলনের জন্য নাভিটাস পেট্রোলিয়ামের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই সম্প্রতি এই অঞ্চলে কাজ করা তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এলো। ব্রিটিশ শাসিত দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিরোধ চলছে।

নাভিটাস পেট্রোলিয়াম সমুদ্রের নর্থ ফকল্যান্ড বেসিনে সি লায়ন নামক একটি অফশোর তেল প্রকল্পে ৬৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ২০২৮ সাল থেকে এই প্রকল্পে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আর্জেন্টিনার সরকারের দাবি, দেশটির কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এই অঞ্চলে সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলন আর্জেন্টিনার প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন। প্রেসিডেন্ট মিলেই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয় এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে আর্জেন্টিনার এই কঠোর অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ ফরেন অফিস মন্ত্রী কার্স্টি ম্যাকনিল হাউস অব কমন্সে জানিয়েছেন, ফকল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার দ্বীপটির বাসিন্দাদের। তিনি আরও বলেন, তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্তটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তনীয়।

প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এর আগে এক ভাষণে ফকল্যান্ডকে ঐতিহাসিকভাবে আর্জেন্টিনার অংশ বলে দাবি করেন। তিনি ফকল্যান্ডে তেল অনুসন্ধানকে দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য একটি স্পষ্ট ও জরুরি বিপদ হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে ২০১৩ সালে ফকল্যান্ডে আয়োজিত এক গণভোটে ৯৯.৮ শতাংশ বাসিন্দা ব্রিটিশ শাসনাধীনে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে মিলেই এই ফলাফলকে অস্বীকার করে দাবি করেন যে, ব্রিটিশদের দখল করা জমিতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের কোনো বৈধ অধিকার নেই।

নাভিটাস পেট্রোলিয়াম এখনো এই মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি গত সপ্তাহে বলেছিল, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে সি লায়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। একই প্রকল্পে অংশীদার থাকা রকহপার সংস্থাও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। উভয় কোম্পানির দাবি, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রকল্পের বৈধ লাইসেন্স প্রদান করেছে।

Leave a Comment