কানাডার অটোয়ায় দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ কার্যকর করেছে। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপে প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই একটি চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে অটোয়া। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা আগস্টের শেষে স্থবির হয়ে পড়ার পর এখন এই পাল্টা শুল্ক আরোপ বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুল্কের আওতা
নতুন এই তালিকায় ইস্পাত, আসবাবপত্র, কটন টি-শার্টসহ শত শত মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া দুধ, গলফ ক্লাব, অ্যালুমিনিয়াম এবং নির্দিষ্ট কিছু পোশাকের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। টয়লেট পেপার, পনির এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রের মতো পণ্যে ২৫ শতাংশ ও ফর্কলিফট ট্রাকে ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিজস্ব মৎস্য শিল্পের আপত্তির মুখে সামুদ্রিক খাদ্যপণ্যগুলো এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেছেন, কানাডা তাদের দেওয়া সেরা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত থাকলে তারা আলোচনায় বসতে আগ্রহী। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ারের কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া কানাডার বিনিময় হার নিয়েও ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অর্থনৈতিক প্রভাব
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পাল্টা শুল্কের ফলে কানাডায় দৈনন্দিন পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে। অগাস্ট মাসে দেশটিতে প্রায় ৪১ হাজার কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে, যা বাণিজ্য আলোচনার অচলাবস্থার সাথে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে কানাডার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘস্থায়ী এই বাণিজ্য বিরোধ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দুই দেশের বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।