অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরস সভায় পারমাণবিক কর্মসূচির শর্ত না মানায় ইরানকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে নালিশ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইএইএ-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির কাছে পাঠানো এই সিদ্ধান্তে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার বিষয়টিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারেরোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় দায়বদ্ধতা পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
আইএইএ-এর এই প্রস্তাবটি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছিল। এতে ২৩টি দেশ সমর্থন দেয়। এর বিপক্ষে ভোট দেয় চীন, রাশিয়া ও নাইজার। তবে চীন ও রাশিয়ার হাতে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতা থাকায় ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া
আইএইএ-এর এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। আর সেই বিঘ্নকেই তারা এখন প্রস্তাব পাস করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের সংঘাত এবং পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সর্বশেষ যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতানজ ও ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইরান জানিয়েছে, এসব হামলার কারণেই তারা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দিচ্ছে না। তেহরান চায়, পরিদর্শনের বিষয়টি যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সামগ্রিক সমঝোতার অংশ হোক।
তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে নিয়মিত সন্দেহ পোষণ করে আসছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল, যা দ্রুত ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব। ইরান অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।