যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকান মধ্যবর্তী নির্বাচনী কনভেনশনে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট। আয়োজকরা কনভেনশনটিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে দেখলেও, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং তেলের ক্রমবর্ধমান দাম দলের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কনভেনশনের মূল বক্তা হিসেবে ট্রাম্পের ভাষণের ঠিক আগেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা ও বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা গেছে। কনভেনশনে অংশ নেওয়া অনেক সমর্থক মনে করেন, ইরান যুদ্ধ তাদের কাছে অস্পষ্ট। নর্থ ডাকোটা থেকে আসা কার্টার আইসিঙ্গার নামের এক ইলেকট্রিশিয়ান জানান, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ উন্নতির সাথে ইরানের যুদ্ধের কোনো যোগসূত্র তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার হিউস্টনের আলোকচিত্রী বিজয় দীক্ষিতের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে এটি একটি কৌশলগত ভুল হতে পারে।
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে। ভোটারদের কাছে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় এখন প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোস-এর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-চতুর্থাংশ আমেরিকান মনে করেন ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যৌক্তিক।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য নির্বাচনের আগেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান নির্বাচনের প্রভাব ফেলতে চাচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এদিকে রিপাবলিকান দলের অনেক কর্মী মনে করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই যুদ্ধ অপরিহার্য ছিল এবং এটি দলীয় ভোটারদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।