ইয়েমেনের লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরটি দখল করে নিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী। মোখা বন্দরের পতনের ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালী থেকে হুতিরা এখন মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে, যা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার প্রধান বাণিজ্য পথের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
সংঘর্ষের বর্তমান পরিস্থিতি
মোখা শহরের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, বুধবার রাতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতি যোদ্ধাদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে হুতিরা শহরে ঢুকে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে। বর্তমানে শহরটির সরকারি কার্যালয় ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং হুতি যোদ্ধারা রাস্তায় টহল দিচ্ছে। অনেকে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন এবং আদেন শহরের দিকে আশ্রয় নিতে ছুটছেন। হুতিরা জানিয়েছে, পশ্চিম উপকূলের জেলাগুলোতে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর অপসারণের পর সংঘর্ষ থেমে গেছে। এদিকে, সরকারি ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের নেতা তারেক সালাহ জানিয়েছেন, তিনি তার কমান্ড সেন্টার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই বন্দরটি দখলের মাধ্যমে হুতিরা লোহিত সাগরে নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করল। হুতিরা দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে তারা কোনো হুমকি নয়। তবে সৌদি আরবের জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে তারা জানিয়েছে। লোহিত সাগরের এই রুটটি তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার ফলে এই উত্তেজনার আঁচ পড়েছে বিশ্ববাজারে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানবিক সংকট ও প্রতিক্রিয়া
গত এক সপ্তাহে হুতিদের এই অভিযানে শত শত মানুষ নিহত ও হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। পালানো পরিবারগুলোর অভিযোগ, কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই হুতিরা আক্রমণ শুরু করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। হুতিরাও সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমির আহ্বান জানিয়েছেন, ইয়েমেনের উপকূল রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে যেন আরব রাষ্ট্রগুলো সহযোগিতা প্রদান করে।