যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপল এবং গুগলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন আইফোন ১৮ প্রো ও পিক্সেল ১১ প্রো নিয়ে বাজারে আলোচনা তুঙ্গে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক উইল শ্যাঙ্কলিন তার প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, স্মার্টফোন দুটি মূলত উদ্ভাবনের চেয়ে বিদ্যমান প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের ওপর বেশি জোর দিয়েছে। শক্তিশালী স্ক্রিন, তিনটি রিয়ার ক্যামেরা এবং প্রচুর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ফিচার থাকলেও এগুলো খুব একটা বৈপ্লবিক নয়।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে
পিক্সেল ১১ প্রো তার সিগনেচার ক্যামেরা বার ধরে রেখেছে, তবে এবার এতে এজ-টু-এজ গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। আইফোন ১৮ প্রো-তে পরিচিত অ্যালুমিনিয়াম ইউনিবডি ও সিরামিক শিল্ড ব্যাক রয়েছে। ডিসপ্লের ক্ষেত্রে উভয় ফোনেই ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটসহ ওএলইডি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। পিক্সেল ১১ প্রো-তে স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী নতুন কোটিং ব্যবহার করেছে গুগল, অন্যদিকে অ্যাপল তাদের সিরামিক শিল্ড প্রযুক্তিকেই উন্নত করেছে।
ক্যামেরা ও এআই সক্ষমতা
ক্যামেরার ক্ষেত্রে গুগল তাদের এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বেশি নির্ভরশীল, যা ব্যবহারকারীর হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। অন্যদিকে, অ্যাপল ক্যামেরার ম্যানুয়াল কন্ট্রোলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, বিশেষ করে প্রো-সিরিজে ভেরিয়েবল অ্যাপারচার যুক্ত করা হয়েছে। ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে আইফোন পেশাদারদের জন্য বেশি উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। এআই ফিচারের ক্ষেত্রে গুগল তাদের জেমিনি ন্যানো মডেলের মাধ্যমে স্মার্টফোনের বিভিন্ন কাজে সহায়তা দিচ্ছে, যেখানে অ্যাপল সিরি-কে আরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে উন্নত করার চেষ্টা করছে।
পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি
গুগলের টেনসর জি৬ চিপ দ্রুত অ্যাপ লঞ্চ ও এআই প্রক্রিয়াকরণে কার্যকর। অ্যাপলের এ২০ প্রো চিপ গেমিং ও ভিডিও এডিটিংয়ের মতো ভারী কাজের জন্য বেশি উপযোগী। ব্যাটারি লাইফের ক্ষেত্রে উভয় কোম্পানিই পুরো দিনের চার্জের নিশ্চয়তা দিয়েছে, তবে চার্জিং গতির ক্ষেত্রে অ্যাপল ও গুগলের দাবি ভিন্ন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
পিক্সেল ১১ প্রো-র দাম শুরু হয়েছে ১,০৯৯ ডলার থেকে এবং আইফোন ১৮ প্রো-র দাম শুরু ১,১৯৯ ডলার থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহক যদি আগে থেকেই অ্যাপল বা গুগলের ইকোসিস্টেমে অভ্যস্ত থাকেন, তবে নতুন করে অন্য প্ল্যাটফর্মে সুইচ করার বড় কোনো কারণ নেই। উভয় ফোনই তাদের নিজ নিজ গ্রাহকগোষ্ঠীর জন্য শীর্ষস্থানীয় ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে বাজারে অবস্থান করছে।