গণতান্ত্রিক কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই বিরল বুন্দিবুগিও ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩,৩৯৮ জন মারা গেছেন। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বর্তমানে ৮৩৭ জন রোগী আইসোলেশনে আছেন বা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতুরির উত্তরাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত, সরকারি উপস্থিতির অভাব এবং দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিমের সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশেও প্রথম সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং কঙ্গো-ব্রাজাভিলের সীমান্তবর্তী এলাকা।
ইতুরি প্রদেশের স্কুলগুলোতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বুনিয়া শহরের একজন অভিভাবক অ্যাঞ্জেলি মাগানি জানান, পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে না জানায় স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বুনিয়ার একজন স্কুল কর্মকর্তা রজার মুঙ্গিম্বো জানান, ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের একে অপরকে স্পর্শ না করার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
ইবোলা শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তপাত ঘটিয়ে অঙ্গ অকেজো করে দেয়। বর্তমানে দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের জন্য অনুমোদিত কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। তবে একাধিক সম্ভাব্য প্রতিষেধক নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।