ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে করোন দ্বীপে যাওয়ার পথে এমভি জুন অ্যাস্টার নামক ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ৪০ ঘণ্টা পর জাহাজটিতে প্রবেশ করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। কোস্টগার্ডের মুখপাত্র নোয়েমি কায়াবিয়াব জানিয়েছেন, বিষাক্ত ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপের কারণে এতদিন জাহাজটির ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় উদ্ধারকারীরা জাহাজের ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন।
এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অনেকের চিকিৎসা চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজে ডুবুরি এবং নার্সদেরও যুক্ত করা হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা মূলত ফেরির কার্গো হোল্ড এলাকা থেকে তল্লাশি শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো হোল্ড থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে জাহাজের ভেতরে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত ধোঁয়া।
ফেরির যাত্রী রোলান্ড লারমা জানান, আগুনের সময় জাহাজটিতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল এবং অনেক যাত্রী জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট ছাড়াই ছিলেন। তিনি নিজে সমুদ্রের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
বর্তমানে ফিলিপাইনের মেরিটাইম অথরিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। জাহাজটির অপারেটর প্রতিষ্ঠান আতিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিস তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ২০০২ সালে নির্মিত ফেরিটির সব ধরনের নিরাপত্তা সনদ ও মার্চ মাসে সম্পন্ন হওয়া পরিদর্শন প্রতিবেদন বৈধ ছিল বলে জানা গেছে।