যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ ওয়াই-ফাই রাউটারের পেছনে থাকা ইউএসবি পোর্টটি ব্যবহারকারীরা সাধারণত এড়িয়ে চলেন, অথচ এটি নানা কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ক্যালভিন ওয়াংহেড জানান, রাউটার মূলত একটি নিম্ন শক্তির কম্পিউটার, যা সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ফাইল সার্ভার তৈরি বা ইন্টারনেট সংযোগের ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করতে পারে।
ফাইল শেয়ারিং ও প্রিন্টার সংযোগ
রাউটারের সেটিংসে গিয়ে ফাইল শেয়ারিং বা মিডিয়া শেয়ারিং অপশনটি চালু করে ইউএসবি পোর্টে পেনড্রাইভ বা এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভ যুক্ত করলে সেটি নেটওয়ার্ক ড্রাইভ হিসেবে কাজ করে। এতে নেটওয়ার্কে যুক্ত যেকোনো ডিভাইস থেকে ফাইল অ্যাক্সেস করা যায়। এছাড়া, যেসব প্রিন্টারে ওয়াই-ফাই সুবিধা নেই, সেগুলোকে এই পোর্টের মাধ্যমে যুক্ত করে তারহীনভাবে প্রিন্ট করা সম্ভব।
ইন্টারনেট ব্যাকআপ
কিছু রাউটারে ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে ৪জি বা ৫জি ডংগল যুক্ত করে ব্যাকআপ ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ইউএসবি টেদারিং ব্যবহার করেও রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা সচল রাখা সম্ভব, যা আইএসপি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কাজে লাগে।
সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা
তবে এই পোর্টের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক রাউটারে ইউএসবি ২.০ সংস্করণ থাকায় ডাটা স্থানান্তরের গতি বেশ ধীর হয়। এছাড়া এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ রাখার জন্য রাউটারের পরিবর্তে ডেডিকেটেড নেটওয়ার্ক-অ্যাটাচড স্টোরেজ (NAS) ব্যবহার করা বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে সাধারণ ফাইল বা মিডিয়া ফাইল শেয়ারিংয়ের জন্য রাউটারের এই পোর্ট বেশ কার্যকর।