ডেনমার্কের রমোর কাছে সমুদ্রের তলদেশে থাকা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি জার্মান সাবমেরিন থেকে আশপাশের পানি ও সামুদ্রিক প্রাণিজগতে বিষাক্ত টিএনটি ছড়িয়ে পড়ছে। আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যাটরিন জুল আন্দ্রেসেন এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, ১৯১৭ সালে ডুবে যাওয়া ইউসি-৩০ নামক সাবমেরিনটি থেকে এই দূষণ ঘটছে, যা সময়ের সাথে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সাবমেরিনটির করুণ পরিণতি
১৯১৭ সালের ১৯ এপ্রিল ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় জার্মানির পথে ফেরার সময় ব্রিটিশ খনির আঘাতে সাবমেরিনটি ডুবে যায়। এতে থাকা ২৭ জন নাবিকের সবাই প্রাণ হারান। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর ২০১৬ সালে ডেনিশ ডুবুরি গার্ট নরমান অ্যান্ডারসেন ধ্বংসাবশেষটি খুঁজে পান। বর্তমানে নর্থ সি রিক্স প্রকল্পের আওতায় এটি নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চলছে।
পরিবেশের ওপর প্রভাব
গবেষক দল সাবমেরিনের আশপাশ থেকে পানি, পলি এবং সামুদ্রিক প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাবমেরিনটিতে থাকা ১৮টি মাইন ও ছয়টি টর্পেডো থেকে টিএনটি নির্গত হচ্ছে। অধ্যাপক আন্দ্রেসেনের মতে, সাবমেরিনটির কাঠামো যত বেশি ক্ষয় হবে, তত বেশি বিস্ফোরক পদার্থ সমুদ্রের পানিতে মিশবে। এতে স্থানীয় সামুদ্রিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
ঝুঁকিতে ড্যানিশ সমুদ্রসীমা
ডেনমার্কের সমুদ্রসীমায় বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশই দুই বিশ্বযুদ্ধের সময়ের। কর্তৃপক্ষের জন্য এই বিশাল সংখ্যক ধ্বংসাবশেষ থেকে পরিবেশ দূষণ রোধ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাধানের পথে বাধা
বিস্ফোরকগুলো সরানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রে পানির নিচে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করলে বিস্ফোরণের ফলে দূষণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে গবেষকরা রোবট প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন, যা সমুদ্রের তলদেশ থেকে বিস্ফোরক খুঁজে বের করতে ও অপসারণে সহায়তা করতে পারে। বর্তমানে বালিতে চাপা পড়া ধ্বংসাবশেষগুলোকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।