নবজাতকের হৃদপিণ্ডের জন্মগত ত্রুটির নতুন কারণ শনাক্ত

September 16, 2026

ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত গবেষকরা নবজাতকের হৃদপিণ্ডের জন্মগত ত্রুটির নেপথ্যে থাকা একটি নতুন কোষীয় প্রক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন। এই গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে, কোষের বাইরের অংশে থাকা এক ধরনের ক্ষুদ্র ‘অ্যান্টেনা’ বা প্রাইমারি সিলিয়াম হৃদপিণ্ড গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গবেষক দলের সদস্য ও জন্মগত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ লার্স অ্যালান লারসেন জানান, কোষের বাইরের এই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভ্রূণের হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে গঠনের জন্য অপরিহার্য। এই প্রক্রিয়াটি কোনো জটিল যন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের মতো কাজ করে, যার বিভ্রাটে শিশুর হৃদপিণ্ডে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

কোষের উপরিভাগে থাকা মাইক্রোস্কোপিক অ্যান্টেনার মতো এই কাঠামোটি মূলত পরিবেশ থেকে রাসায়নিক সংকেত গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে। কোষের বিভাজন, স্থানান্তর বা মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এই সংকেতের ওপরই নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, TAK1, TAB2 এবং PKA-Cα নামক তিনটি প্রোটিন এই অ্যান্টেনার ভেতরে সিগন্যালিং হাব হিসেবে কাজ করে যা স্টেম সেলকে হৃদপেশিতে রূপান্তরিত হতে নির্দেশনা দেয়।

কোষ জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোরেন তোভরাপ ক্রিস্টেনসেন বলেন, জিনের পরিবর্তনের কারণে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে ‘অ্যান্টেনা ডিফেক্ট’ দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত জন্মগত হৃদরোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গবেষকরা তাদের এই তত্ত্ব প্রমাণ করতে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জিনগত তথ্যের পাশাপাশি জেব্রাফিশ এবং ইঁদুরের স্টেম সেলের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। ল্যাবরেটরিতে দেখা গেছে, এই প্রোটিনগুলোতে মিউটেশন ঘটলে হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

এই ত্রুটি শুধু হৃদপিণ্ডের বিকাশের সাথেই সম্পর্কিত নয়, বরং মস্তিষ্ক, কিডনি এবং কঙ্কালের অস্বাভাবিক গঠনের সাথেও এর যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। প্লোস বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত এই ফলাফল ভবিষ্যতে জন্মগত ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

Leave a Comment