সৌদি আরবে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটিকে তেল রফতানিতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশনে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে চালানো এই হামলার প্রভাব এবং মেরামতের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পাইপলাইন মেরামত করতে অন্তত চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
সৌদি আরব এতদিন লোহিত সাগরের মাধ্যমে তেল রফতানির জন্য ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এড়াতে এটি ছিল অন্যতম প্রধান বিকল্প পথ। পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৩.৬ শতাংশ। বিশ্লেষক হুমায়ুন ফালাকশাহি জানিয়েছেন, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে এটি দ্রুত সচল করা কঠিন হবে।
সংঘর্ষ ও পরিস্থিতি
সৌদি কর্তৃপক্ষ ইরাকে অবস্থিত ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের এই হামলার জন্য দায়ী করেছে। এর আগে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে সৌদি জোট ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, স্যাটেলাইট চিত্রে সৌদির কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতেও ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে, যেখানে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান রাখা হতো।
উদ্ভুত পরিস্থিতি
গত শুক্রবার সৌদি আরব সতর্কতা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ ঘোষণা করলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। একদিকে যেমন অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে নতুন করে সংঘর্ষের ফলে ইয়েমেনে প্রায় এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে। সৌদি সরকার এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।