রাশিয়ার পোডলস্কে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটির সংসদীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন যাচাই এবং সরকারের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই রাশিয়ার প্রথম সংসদীয় নির্বাচন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি
নির্বাচনের শেষ দিনে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, এটি ছিল যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার ঘটনা। মস্কো ও ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে এসব হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বাধা সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের শেষ সময় পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৬.৬৬ শতাংশ। সোমবার সকালে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।
তীব্র নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধহীন ভোটের পরিবেশ
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আসা ১১ কোটি ১০ লাখ ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে মস্কোর দখলে থাকা ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল ও ক্রিমিয়ার বাসিন্দারাও রয়েছেন। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এসব অঞ্চলে ভোট আয়োজনকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে রাশিয়ায় মূলধারার কোনো বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। যুদ্ধের সমালোচনাকারী একমাত্র নিবন্ধিত দল ইয়াবলোকোকে গত মাসেই সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনের বাইরে রেখেছে। এছাড়া যুদ্ধের বিরোধী অনেক নেতাকে কারাবন্দি করা হয়েছে অথবা তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া দলের জয় একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা এবং প্রকৃত বিরোধীদের অনুপস্থিতিতে ক্রেমলিন দেশটিতে তাদের নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার পথে রয়েছে।