যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের চলমান বিরোধের জেরে হোয়াইট হাউস প্রেস পুলের কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের এই প্রথাগত প্রক্রিয়ায় বড় বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো অংশ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার সরাসরি সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটছে, যা মার্কিন সংবিধানের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
হোয়াইট হাউস প্রেস পুল কী
হোয়াইট হাউস প্রেস পুল মূলত বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার একটি সমন্বিত গ্রুপ, যারা প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন সব কর্মকাণ্ডের খবর সংগ্রহ করে। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো জায়গা ও খরচ বাঁচানো। কারণ, শত শত সংবাদ মাধ্যমের পক্ষে সব সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা সম্ভব হয় না। পুলের সদস্যরা সংগৃহীত তথ্য ও ছবি অন্যান্য গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করেন। সাধারণত সিএনএন, এবিসি, সিবিএস, ফক্স নিউজ এবং এনবিসি এই পুলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
বিরোধের সূত্রপাত
এই সংকটের শুরু হয় যখন ট্রাম্প সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও নামের তিনটি সংবাদ সংস্থাকে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এরপরই ওই মাধ্যমগুলোর কর্মীদের প্রবেশপত্র বাতিল করা হয়। এর প্রতিবাদে সোমবার প্রধান মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কার্যক্রমের ‘পুল কাভারেজ’ বর্জনের ঘোষণা দেয়। এর ফলে সোমবার হোয়াইট হাউসে হেলিপ্যাড উদ্বোধনের সময় কোনো পুল ক্যামেরা ছিল না এবং প্রেসিডেন্টের বক্তব্যও স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।
সাংবিধানিক সংকট ও আইনি লড়াই
গণমাধ্যমগুলোর দাবি, সরকারের উচিত নয় কোনো সংবাদ সংস্থাকে তাদের প্রতিবেদনের কারণে নিষিদ্ধ করা। মার্কিন সংবিধানের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যার শুনানি বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্প টিভি
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে গণমাধ্যমগুলোর এই বর্জন ও মামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি ওই গণমাধ্যমগুলোকে ‘তৃতীয় সারির ক্লাউন’ ও ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর মধ্যেই হোয়াইট হাউস নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে, যেখানে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউস করসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রেস পুলের ওপর প্রশাসন নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করলে তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।