যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দর্শকদের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়ের ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মাঠের পাশের বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করেছেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালীন মোট ৬৫ হাজার ৭২২ বার অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়ের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যেসব খাবারে চর্বি, লবণ বা চিনির পরিমাণ অনেক বেশি, সেগুলোকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। মাঠের বিজ্ঞাপন বোর্ডে এই বিজ্ঞাপনগুলো মোট ২৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেখা গেছে, যা মোট খেলার সময়ের প্রায় ১৬ শতাংশ।
গবেষকদের মডেল অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচে গড়ে ৫৭৬ বার অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। এর মধ্যে কোকা-কোলা সবচেয়ে বেশি ২১,৮৯৩ বার, ম্যাকডোনাল্ডস ১৩,৯১৫ বার, পাওয়ারএইড ১২,৭৭৭ বার এবং লে’স ১২,০৮৭ বার তাদের ব্র্যান্ডের প্রচার চালিয়েছে। এই চারটি প্রতিষ্ঠানই ফিফার অফিশিয়াল পার্টনার।
বিজ্ঞাপনের প্রভাব সম্পর্কে গবেষকরা বলছেন, বারবার ফুটবল, উত্তেজনা এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর ব্র্যান্ডের সংযোগ তৈরি করার ফলে দর্শকদের কাছে এই পণ্যগুলো স্বাভাবিক মনে হতে থাকে। এছাড়া জুয়া বা অ্যালকোহল কোম্পানির তুলনায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন সাত থেকে দশ গুণ বেশি ছিল।
ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে এবং এর থেকে অর্জিত আয়ের বড় অংশ ফুটবলের উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন। অ্যাসোসিয়েশন অফ ডিরেক্টরস অফ পাবলিক হেলথ-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ফেলের মতে, এটি বিজ্ঞাপনের একটি বড় ফাঁক। শিশুদের লক্ষ্য করেই এই বিপণন কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের স্থূলতা ও খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এমন বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি সমালোচনার মুখে পড়েছে। গবেষক ড. এলিসা বেকার বলেন, খেলাধুলাকে সুস্থতার অংশ হওয়া উচিত, অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রচারের মাধ্যম নয়।