যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটা তাদের স্মার্ট গ্লাসের ব্যবহারকারীদের এআই প্রশিক্ষণে ব্যক্তিগত ভিজ্যুয়াল ডেটা ব্যবহারের সুযোগ থেকে বেরিয়ে আসার (অপ্ট-আউট) সুবিধা দিচ্ছে। গোপনীয়তা নিয়ে সমালোচকদের চাপের মুখে প্রতিষ্ঠানটি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের গ্লাসের ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা ছবি বা ভিডিও মেটার এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন।
নতুন এই পরিবর্তনের ফলে, ক্যামেরা ব্যবহার করে মেটা এআইয়ের সাথে যে মিথস্ক্রিয়াগুলো হবে, সেগুলো আর প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে না। এছাড়া এই ভিজ্যুয়াল ডেটাগুলো আর বাইরের কোনো দেশের থার্ড-পার্টি ঠিকাদার বা কন্ট্রাক্টরদের কাছে পর্যালোচনা বা লেবেলিংয়ের জন্য পাঠানো হবে না।
মেটা জানিয়েছে, কোনো ব্যবহারকারী যদি অপ্ট-আউট সুবিধাটি বেছে নেন, তবে তারা যখন গ্লাস ব্যবহার করে কোনো মেনু বা অন্য কিছুর অনুবাদ করার অনুরোধ করবেন, তখন সেই ডেটা শুধুমাত্র প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তা মুছে ফেলা হবে এবং পণ্য উন্নয়নের জন্য সেটি আর সংরক্ষিত থাকবে না।
কেন এই সিদ্ধান্ত
এর আগে মেটা এআইয়ের সাথে ক্যামেরা ব্যবহার করে যেসব মিথস্ক্রিয়া হতো, সেগুলো এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করত কোম্পানিটি। কিন্তু ব্যবহারকারীরা জানতেন না যে তাদের ধারণ করা এসব ছবি বা ভিডিও মেটার সার্ভারে সংরক্ষিত হচ্ছে এবং সেগুলো প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে অনেকের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও থার্ড-পার্টি ঠিকাদারদের হাতে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
সীাবদ্ধতা
মেটার এই নতুন নীতি শুধুমাত্র ভিজ্যুয়াল ডেটার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। অডিও মিথস্ক্রিয়া বা কথোপকথনগুলো এখনো মেটার এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে ম্যানুয়ালি সেই অডিও রেকর্ডগুলো ডিলিট করতে পারবেন। গোপনীয়তা রক্ষার এই উদ্যোগের পাশাপাশি মেটা সম্প্রতি ক্যামেরা ছাড়া নতুন প্রজন্মের রে-ব্যান স্মার্ট গ্লাস বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছে।