যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগে (এনএফএল) খেলা মৃত খেলোয়াড়দের মধ্যে মাথায় বারবার আঘাতজনিত কারণে সৃষ্ট মস্তিষ্কের রোগের হার আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মারা যাওয়া ৮৭৮ জন খেলোয়াড়ের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান গবেষক ড্যানিয়েল ডানেশভার। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি খেলাটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় মারা যাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে যাদের মস্তিষ্ক গবেষণার জন্য দান করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৯৭.৭ শতাংশেরই ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি (সিটিই) নামক এক ধরনের ক্ষয়জনিত মস্তিষ্কের রোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটিই এমন একটি রোগ যা শুধুমাত্র মৃত্যুর পরেই নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় এনএফএল খেলোয়াড়দের স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগে মৃত্যুর হার চার গুণ বেশি।
গবেষকদের মতে, একজন খেলোয়াড় যে পরিমাণ মাথায় আঘাত পান, তার বড় একটি অংশ এনএফএল পর্যায়ে নয়, বরং স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের খেলার সময় ঘটে থাকে। সব স্তরের খেলোয়াড়দের মাথায় বারবার আঘাত কমানোর জন্য এনএফএল কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এনএফএল-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা খেলাটিকে আরও নিরাপদ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাথায় আঘাত ও কনকাশন কমানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া প্রাক্তন খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সংস্থাটি প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালে ৫ হাজারেরও বেশি প্রাক্তন খেলোয়াড়ের সাথে এক বিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল এনএফএল। আমেরিকান ফুটবলে খেলোয়াড়দের মাথায় আঘাত পাওয়ার এই ঝুঁকি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।