তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা: তথ্য গোপন করছে চীন

August 29, 2026

চীনের তিব্বত অঞ্চলে গিরং বন্দরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, কিন্তু দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছে। বিবিসি-র চীন বিষয়ক প্রতিবেদক লরা বিকার জানিয়েছেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পানি বৃদ্ধির এই বিপর্যয়ের দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও চীনের সাধারণ মানুষ তা জানার সুযোগ পাচ্ছে না।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বন্যায় উদ্ধার অভিযানের কিছু ফুটেজ দেখালেও সেখানে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বা ভুক্তভোগীদের কোনো বক্তব্য প্রচার করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক করেছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে চীনের তথাকথিত ইন্টারনেট ফায়ারওয়ালের কারণে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের কোনো ব্যক্তিগত ভিডিও বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিব্বতের রাজনৈতিক ইতিহাসের সংবেদনশীলতার কারণে বেইজিং বরাবরই এই অঞ্চল নিয়ে কঠোর অবস্থানে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সরকারবিরোধী জনমত এড়াতে বেইজিং এই দুর্যোগের তথ্য প্রকাশে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখছে। এমনকি স্থানীয় দলীয় কার্যালয়গুলোকে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তিব্বতে মানবিক বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু বিধিনিষেধের কারণে তিব্বতের বাইরে থাকা স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের অবস্থা সম্পর্কে প্রায় কোনো তথ্যই জানতে পারছেন না। বিদেশি সাংবাদিকদেরও তিব্বতে প্রবেশের জন্য সরকারের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। চীনের দাবি, তারা এই অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ করছে, তবে সেই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার আড়ালে তিব্বতিদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Comment