গ্রিনল্যান্ডে জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রণ: জেনোসাইডের অভিযোগ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ বিশেষজ্ঞ প্যানেল

August 29, 2026

গ্রিনল্যান্ডের নুউকে দেশটির বিচারমন্ত্রী মারিয়ান পাভিয়াসেন জানিয়েছেন, ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে ইনুইট সম্প্রদায়ের ওপর জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রয়োগের ঘটনাটি ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যা কি না, তা নিয়ে সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্ত ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতভেদ

ডেনমার্ক কর্তৃক এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার এক বছর পর গত শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল দুটি ভিন্ন মতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ডালি সাম্বো ডোরোফ ও মিরিয়াম কালেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনুইট নারীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তবে কেবল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ভিত্তিতে একে গণহত্যা বলা কঠিন। অন্যদিকে, জোনাস ক্রিস্টোফারসেন ও জেনসিনে নেদারগার্ডের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা ধ্বংস করার কোনো উদ্দেশ্য কর্তৃপক্ষের ছিল না।

ঐতিহাসিক পটভূমি ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা

জাতীয় আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গ্রিনল্যান্ডিক নারী ও কিশোরীর শরীরে ইনট্রা-ইউটেরাইন ডিভাইস (আইইউডি) বা জন্মনিয়ন্ত্রণ কয়েল স্থাপন করা হয়। অনেকেরই বয়স ছিল ১৩ বছর। বহু নারী অভিযোগ করেছেন যে, তাদের সম্মতি ছাড়াই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী ইনগার প্লাটু জানান, অস্ত্রোপচারের কথা বলে তাকে অজ্ঞান করে সম্মতি ছাড়াই এই ডিভাইস বসানো হয়, যার ফলে তিনি স্থায়ীভাবে সন্তান ধারণের ক্ষমতা হারান।

পরবর্তী পদক্ষেপ

ডেনমার্ক সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের প্রত্যেকের জন্য ৩ লাখ ডেনিশ ক্রোন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইন পাস করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন জানিয়েছেন, বিষয়টির সুরাহার জন্য একটি ‘পুনর্মিলন কমিশন’ গঠন করা হবে।

Leave a Comment