পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে গত শনিবার একটি সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নাইজারের বৈধ প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান তিয়ানির সরকারের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীকে এই অভ্যুত্থান দমনে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আফ্রিকান কোরের সৈন্যরা সহায়তা করেছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নাইজারের সামরিক শাসকের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং দেশটির ওপর রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
শনিবার ভোর থেকেই নিয়ামের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই নাইজারের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা দেয়। তবে এই ঘটনায় কতজন সেনা জড়িত ছিল বা হতাহতের সংখ্যা কত, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নাইজারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড কর্তৃক বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী সেনাকে আটকের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। রবিবার থেকে রাজধানী নিয়ামের জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সমর্থকরা শহরটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনে শোভাযাত্রা করেছেন।
নাইজারের শাসক জেনারেল তিয়ানি গত বছর নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসেন। বর্তমানে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসিত সরকারগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাশিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করেছে। তবে এই মিত্রতা সত্ত্বেও দেশগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা ও সহিংসতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।