স্পেসটাইম ক্রিস্টাল থেকে ব্ল্যাক হোল তৈরির গাণিতিক সমাধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

August 31, 2026

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি এবং জার্মানির গোয়েথে ইউনিভার্সিটি ফ্রাঙ্কফুর্টের গবেষকরা মহাকাশের এক অদ্ভুত অবস্থা বা ‘স্পেসটাইম ক্রিস্টাল’ নিয়ে নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। এই ক্রিস্টালটি সামান্য শক্তি পরিবর্তনের ফলে বিলীন হয়ে যেতে পারে অথবা অতি ক্ষুদ্র বা মাইক্রোস্কোপিক ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে। গবেষকরা প্রথমবারের মতো এই জটিল প্রক্রিয়াটির গাণিতিক সমাধান বের করতে সক্ষম হয়েছেন।

সাধারণত মহাকাশের বিশাল নক্ষত্র ধ্বংসের সময় ব্ল্যাক হোল তৈরি হয়। কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে ব্ল্যাক হোলের কোনো নির্দিষ্ট ছোট আকারের সীমা নেই। গবেষকদের মতে, মহাবিশ্বের আদি অবস্থায় বা বিগ ব্যাং-এর ঠিক পরেই যখন পদার্থ ও শক্তি চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল, তখন স্পেসটাইম ক্রিস্টালের মতো বিশেষ ক্রিটিক্যাল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারত। এই অবস্থা থেকেই মাইক্রোস্কোপিক ব্ল্যাক হোল তৈরি হওয়া সম্ভব।

পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড্যানিয়েল গ্রুমিলার এই প্রক্রিয়াকে পানির বরফে পরিণত হওয়ার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি জানান, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে পানির অণুগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে যেমন বরফের স্ফটিক তৈরি করে, তেমনি বিশেষ পরিস্থিতিতে স্পেসটাইমও এক ধরনের সুশৃঙ্খল কাঠামো তৈরি করে, যাকে স্পেসটাইম ক্রিস্টাল বলা হচ্ছে। এই কাঠামোটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। সামান্য বাড়তি শক্তি পেলেই এটি ব্ল্যাক হোলে রূপ নিতে পারে।

গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এর গাণিতিক মডেল। প্রচলিত চার মাত্রার মহাবিশ্বের সমীকরণে এই জটিল হিসাব করা কঠিন ছিল। বিজ্ঞানীরা একে সহজ করতে গাণিতিকভাবে অসীম সংখ্যক মাত্রার আশ্রয় নিয়েছেন। অসীম মাত্রায় হিসাব করার পর সেই সমাধান চার মাত্রার মহাবিশ্বের জন্য প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। এই নতুন গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্ল্যাক হোল গঠন এবং মহাকাশের চরম অস্থিতিশীল আচরণ সম্পর্কে নতুন অনেক তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

Leave a Comment