যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা দ্বন্দ্বের জেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ৪১ বছর বয়সী এই কর্মকর্তার পদত্যাগের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম কারিগর ছিলেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ড্যান ড্রিসকল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং অ্যাগেইন’ এজেন্ডা এগিয়ে নিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। সামরিক অভিযানে তার নেতৃত্বকে হোয়াইট হাউস ‘অসামান্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনে যোগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। ড্রিসকলের সঙ্গে হেগসেথের ঠিক কী কারণে দ্বন্দ্ব ছিল তা স্পষ্ট নয়। তবে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পদত্যাগ করা আর্মি চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দিতে হেগসেথ চাপ দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ড্রিসকলের বিদায় মার্কিন সামরিক নেতৃত্বে চলমান বড় পরিবর্তনের একটি অংশ। এর আগে এপ্রিলে নৌবাহিনী সচিব জন ফেলান আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন। এছাড়া র্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ডেভিড হডন এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও সম্প্রতি দায়িত্ব ছেড়েছেন।
ব্যক্তিগত পরিচয় ও অবদান
ড্যান ড্রিসকলকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ড্রোন গাই’ হিসেবে অভিহিত করা হতো, কারণ তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি সক্রিয় সৈন্য, ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ সেনাদের পরিচালনার পাশাপাশি ন্যাশনাল গার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে মোতায়েনের মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।