যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, বিশ্ব এখন চরম আবহাওয়ার এক বিপজ্জনক জোনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। এটি গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে রেকর্ড গড়েছে, যা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর ফলে কিছু অঞ্চলে তীব্র খরা দেখা দেবে, আবার কিছু এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সৃষ্টি হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে এই এল নিনো যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। গুতেরেস বলেন, আমাদের চোখের সামনেই এল নিনো অতিমাত্রায় শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং গ্রহটি এখন অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় তারা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা এল নিনোকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
ইন্দোনেশিয়ায় এল নিনোর কারণে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বৃষ্টির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পানামা খালে পানির স্তর কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বেড়েছে এবং দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশে বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় কেবল সতর্কতা জারি করাই যথেষ্ট নয়, বরং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর প্রচেষ্টা চলছে।