শারপভিল গণহত্যা: ছয় দশক পর ন্যায়বিচারের আশায় দক্ষিণ আফ্রিকার বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীরা

September 3, 2026

দক্ষিণ আফ্রিকার শারপভিলে ১৯৬০ সালের বর্ণবাদবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশি হামলার শিকার বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এবং নিহতদের স্বজনেরা দীর্ঘ ৬৬ বছর পর ন্যায়বিচারের দাবিতে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির হাইকোর্টে এই মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকারের আমলে পাস হওয়া একটি দায়মুক্তি আইনকে চ্যালেঞ্জ করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে তৎকালীন দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
১৯৬০ সালের ২১ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার শারপভিলে বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর আরোপিত কঠোর পাস আইন বা ডোম্পাসের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ ডাকা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ বিনা উসকানিতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। সরকারি হিসাবে তখন ৬৯ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় নিহতের সংখ্যা ৯১ জন পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই হামলায় আহত ৮৬ বছর বয়সী আব্রাহাম মোফোকেনগ এখনো শরীরে সেই গুলির চিহ্ন বহন করছেন।

আইনি লড়াইয়ের উদ্দেশ্য
১৯৬১ সালে বর্ণবাদী সরকার একটি দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল, যা পুলিশকে যেকোনো অপরাধমূলক দায় থেকে সুরক্ষা দিয়েছিল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার তিন দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই আইনটি এখনো বহাল রয়েছে। লয়ার্স ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইউকে-ভিত্তিক আইন সংস্থা লেই ডে যৌথভাবে এই মামলাটি দায়ের করেছে। আইনজীবীদের মতে, এই আইনটি নতুন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং এটি বাতিলের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ পেতে পারে।

বর্তমান অবস্থা
শারপভিলের সেই এলাকাটি এখন অবহেলিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবে বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, এই আইনি জয় শুধু তাদের জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্যও শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা বর্ণবাদের শিকার ভুক্তভোগীদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে এবং আদালতের যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে শারপভিলের ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা এখন পর্যন্ত যথাযথ বিচার বা ক্ষতিপূরণ পাননি, যা তাদের ক্ষতকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।

Leave a Comment