ফিলিস্তিনের গাজা সিটির আল-নাসর এলাকায় তীব্র গরমের মধ্যে একটি ছোট তাঁবুতে বসে রোগীদের দাঁতের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. রিজক সুফিয়ান আবু হালিমা। ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন ও অবরোধের কারণে বাড়িঘর ও ক্লিনিকের তীব্র সংকটের মধ্যে এই তাঁবুই এখন তার একমাত্র ভরসা। চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এবং আকাশচুম্বী ভাড়ার কারণে সাধারণ রোগীদের সাশ্রয়ী সেবা দিতেই তিনি এমন কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন।
ডা. হালিমা জানান, যুদ্ধের শুরুর দিকে উত্তর গাজায় তার মূল ক্লিনিকটি ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত বছরের মে মাসে নতুন একটি ক্লিনিক স্থাপন করলেও কয়েক মাস পরেই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সেটিও গুঁড়িয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় এবং নতুন কোনো বাণিজ্যিক ভবন ভাড়া নেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতেই জরুরি দন্তচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটি এবং উত্তর গাজার পাঁচ ভাগের চার ভাগ ভবনই যুদ্ধের ফলে সম্পূর্ণ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আবাসন ও বাণিজ্যিক জায়গার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধের আগে যে ফ্ল্যাট ৫০০ শেকেলে ভাড়া পাওয়া যেত, এখন তা ১০০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই উচ্চ মূল্য সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
চিকিৎসক আবু হালিমা জানান, তিনি যদি কোনো অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে ক্লিনিক চালাতেন, তবে দাঁতের ফিলিংয়ের খরচ রোগীদের জন্য দ্বিগুণ হয়ে যেত। তাই অসহনীয় গরম উপেক্ষা করেই তিনি এখানে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তাঁবুর চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং যন্ত্রপাতির জীবাণুমুক্তকরণের দিকে তিনি বিশেষ নজর রাখছেন।
তবে গাজার বিধ্বস্ত অর্থনীতিতে দন্তচিকিৎসা এখন অনেকের জন্যই বিলাসিতা। পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে রোগীরা ফিলিংয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার বদলে দাঁত তুলে ফেলার মতো কষ্টসাধ্য সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। হিব্বা রিহান নামে একজন নার্স জানান, অর্থ সংকটে থাকা রোগীরা যখন ব্যথানাশক চিকিৎসার পরিবর্তে দাঁত উপড়ে ফেলার আবেদন করেন, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।