মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি জাহাজ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম উভয়ই পৃথকভাবে এই সংঘাতের কথা নিশ্চিত করেছে। ইরান সমর্থিত দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে পুরোপুরি অকার্যকর এবং ওমান সাগরে তৃতীয় একটি ট্যাংকার ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতের কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তেহরানও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজ এবং অননুমোদিত রুট দিয়ে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, হামলার আগে ইরান তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, তবে মার্কিন বাহিনী তা সফলভাবে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
ইরানের খারগ দ্বীপের কাছে ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে জানিয়েছে তেহরান। তবে ওমান সাগরে আক্রান্ত দুটি ট্যাংকারের নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করে দেবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে বড় কোনো যুদ্ধ হিসেবে দেখতে রাজি নন এবং একে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে এই সংঘাতের মাঝে ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় চারজন নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যাকে তেহরান ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দিলেও ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে।