আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ক্রোকে পার্কে ফ্রান্সের ফ্লোরা পিলির বিপক্ষে পয়েন্ট ব্যবধানে জয়ী হয়ে পেশাদার বক্সিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন আইরিশ কিংবদন্তি কেটি টেইলর। ৮০ হাজার দর্শকের সামনে এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়সী এই তারকা তার ডব্লিউবিএ (WBA), আইবিএফ (IBF) এবং ডব্লিউবিও (WBO) সুপার-লাইটওয়েট বেল্ট ধরে রাখার পাশাপাশি খালি থাকা ডব্লিউবিসি (WBC) খেতাবটিও জিতে নেন। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি তৃতীয়বারের মতো আনডিস্পিউটেড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়েছেন।
ম্যাচটিতে টেইলর তার অভিজ্ঞতা ও ক্ষিপ্রতাকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন। তবে প্রতিপক্ষ পিলি সপ্তম রাউন্ডে ভালো লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও অষ্টম রাউন্ড থেকে পুনরায় ম্যাচে ফিরে আসেন টেইলর। শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জয়ী হয়ে তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিদায় জানান।
সাফল্যের যাত্রা
নিজের শেষ লড়াইয়ে জয়ের পর টেইলর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার পরিবারের প্রতি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তার বাবার কথা, যিনি তাকে বক্সিং শিখিয়েছেন। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতা টেইলর ক্যারিয়ারে মোট ২৬টি জয় ও মাত্র একটি হারের পরিসংখ্যান নিয়ে বিদায় নিলেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
টেইলরের এই বিদায়ী ম্যাচটি আইরিশ বক্সিংয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ডাবলিনের ক্রোকে পার্কে কোনো বড় ধরনের বক্সিং টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হলো। এছাড়া, যে সময়ে আয়ারল্যান্ডে মেয়েদের অ্যামেচার বক্সিংয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না, সেই প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি বিশ্বমঞ্চে নারীদের বক্সিংয়ের অগ্রযাত্রায় পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।