দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এক কঠিন কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেশটির ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে এই পদক্ষেপে অংশ নিলে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছে ইরান। এই পরিস্থিতি সিউলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মিত্র, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর জ্বালানি সরবরাহের জন্য নির্ভরশীল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেয়, তবে তা সরাসরি আগ্রাসনকারীদের সমর্থন হিসেবে গণ্য হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো সার্বভৌম দেশকেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে ইরানের বিরুদ্ধে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া উচিত নয়।
কেন দক্ষিণ কোরিয়াকে চাপ দেওয়া হচ্ছে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিউলকে এই যুদ্ধে সহায়তা করতে আহ্বান জানিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া সংক্ষিপ্ত করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। তবে ট্রাম্পের এই অযাচিত চাপ সিউলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে দেশটির সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যদি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি অটুট রেখে কিছু করার প্রয়োজন হয়, তবে সিউল অ-যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। যদিও দেশটির পার্লামেন্ট এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করে। যুদ্ধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে মূল্যস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ান ওনের মান ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তাই প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সিউলের জন্য একটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।