ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার সঙ্গে বৈঠকে ৪৫ মিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মাদক ও অপরাধী চক্র নির্মূলে ইকুয়েডরকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা সহায়তার অংশ হিসেবে ইকুয়েডরকে একটি কোস্ট গার্ড কাটার জাহাজ এবং পাঁচটি ইন্টারসেপ্টর নৌযান দেওয়া হবে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইকুয়েডরকে সাতটি নৌযান সরবরাহ করেছিল। এছাড়া অবৈধ স্বর্ণ খনি, গ্যাং নিয়োগ এবং মাদক পাচার দমনে আরও ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি নতুন কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন রুবিও।
অপরাধী চক্র দমনে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ইকুয়েডর-ভিত্তিক মাদক পাচারকারী চক্র ‘লস টিগেরোনেস’-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন। রুবিও দাবি করেন, এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী সক্ষমতা রয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এগুলোকে অবশ্যই নির্মূল করতে হবে।
ইকুয়েডরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট নোবোয়ার গৃহীত কঠোর অবস্থানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির মিল রয়েছে। বর্তমানে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ইকুয়েডর সরকার সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে এবং একে ‘রাষ্ট্রীয় যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর আগে গত মার্চে দুই দেশ যৌথ সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
তবে এই কঠোর মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে উভয় দেশের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, মাদক চোরাচালান দমনের নামে পরিচালিত মার্কিন নৌ-হামলায় অনেক সাধারণ জেলে নিহত হয়েছেন এবং ঘটনাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। যদিও রুবিও জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য সাধারণ জেলে নয়, বরং মাদক পাচারকারীরাই তাদের মূল লক্ষ্য।