নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজা থেকে নাইজেরিয়ার পার্লামেন্ট দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের সব ধরনের সরকারি সফর স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নিম্নকক্ষের মুখপাত্র আকিন রোতিমি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির আইনপ্রণেতা, কমিটির সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের ওপর ক্রমাগত হামলা এবং নাইজেরীয় নাগরিকদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ক্লার্ক কামোরু ওগুনলানা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় নাইজেরীয় নাগরিকদের হত্যা, আহত এবং তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এমনকি ভার্চুয়াল মিটিংগুলোতে অংশ নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে নাইজেরিয়ার পার্লামেন্ট। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদেশে নিজেদের নাগরিকদের ওপর বারবার হওয়া হামলা তারা আর উপেক্ষা করতে পারে না।
সহিংসতার পটভূমি
আফ্রিকার অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীরা জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান। তবে উচ্চ বেকারত্ব এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব বেড়েছে। গত কয়েক মাসে ডারবানসহ বিভিন্ন শহরে অভিবাসীদের ঘর থেকে টেনে বের করে পুলিশ ভ্যানে তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
জুলাই মাসে আবুজা সফরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলার সঙ্গে নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে জানানো হয়েছিল, ২০২২ সাল থেকে দেশটিতে অন্তত ৯৮ জন নাইজেরীয় নাগরিক মব কিলিং বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি তথ্যমতে, অভিবাসী অস্থিরতা শুরুর পর থেকে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ দেশ ছেড়েছেন, যদিও ভুক্তভোগী দেশগুলোর দাবি এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার।